বাংলাদেশে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিবেশী নীতি নিয়ে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাজে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধারণ বোধ ও বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে ভালো প্রতিবেশী ও মন্দ প্রতিবেশীর পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ঢাকায় সফর শেষে দেশে ফেরার দুই দিন পর জয়শঙ্কর এই মন্তব্য করেন। ওই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে শোকবার্তা পৌঁছে দেন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে।
আইআইটি মাদ্রাজের অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের প্রতিবেশী নীতি মূলত সাধারণ বুদ্ধির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী যদি ভালো হয় বা অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তার পাশে দাঁড়ানো, সহযোগিতা করা এবং সহমর্মিতা দেখানোই যুক্তিসংগত আচরণ। প্রতিবেশীর কোনো সমস্যা হলে ভারত তাতে অবদান রাখতে চায়। এমনকি কিছু না হলেও অন্তত সৌজন্য বিনিময় ও সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, যেখানে ভালো প্রতিবেশীর মনোভাব থাকে, সেখানে ভারত বিনিয়োগ করে, সহায়তা দেয় এবং ভাগাভাগি করে নেয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় টিকা সহায়তা, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জ্বালানি ও খাদ্য সহযোগিতা এবং আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কাকে চার বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভারত এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ করেছে।
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণে ভারতের অবস্থান পরিস্থিতি ও পারস্পরিক আচরণের ওপর নির্ভরশীল এবং এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও সৌহার্দ্যই মূল বিবেচ্য বিষয়।
















