নতুন বছরের শুরুতে ২০২৬ সাল নিয়ে নিজের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান। তাঁর লক্ষ্য একটাই—আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য এনে দেওয়া, হোক তা পদক কিংবা নতুন কোনো রেকর্ডের মাধ্যমে।
ইমরানুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রস্তুত হচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়ান গেমস পিছিয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হলেও, সামনে থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তাঁর রয়েছে। তিনি জানান, শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য এবং যাঁরা তাঁর ওপর আস্থা রাখেন, তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতেই তিনি মাঠে নামতে চান।
ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে তাঁর বড় স্বপ্ন হলো বাংলাদেশে অ্যাথলেটিকসকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও জনপ্রিয় করে তোলা। ইমরানুরের মতে, এই খেলাটি যেন ছোট শিশুদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং তারা ভবিষ্যতে অ্যাথলেট হওয়ার স্বপ্ন দেখে। খেলাধুলা মানুষের জীবন গঠনে বড় ভূমিকা রাখে—শৃঙ্খলা শেখায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন স্বপ্ন দেখায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিয়মিত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইমরানুর রহমান। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে এখনো প্রত্যাশিত মাত্রার সহায়তা নেই। তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। নতুন বছরে এই জায়গায় অগ্রগতি দেখতে চান তিনি।
ইমরানুর বলেন, শুধু অ্যাথলেটিকস নয়, দেশের সব খেলাই তাঁর স্বপ্নের অংশ। নতুন বছরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও বেশি ট্রফি আসুক, নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে উঠুক—এটাই তাঁর কামনা। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং সবার সম্মিলিত সমর্থন পেলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য এনে দিতে সক্ষম।
২০২৫ সালকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেন ইমরানুর রহমান। অস্ত্রোপচারের পর মাঠে ফেরাটা তাঁর জন্য শুধু শারীরিক লড়াই নয়, মানসিকভাবেও ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। সেই সময়ে ফলের চিন্তা না করে সুস্থ হয়ে ওঠাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য, যাতে ২০২৬ সালে আরও শক্তভাবে ফিরে আসতে পারেন।
গত বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশামতো অংশ নিতে না পারলেও জাতীয় সামার চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরে আবারও দেশের দ্রুততম মানব হওয়ার সাফল্য তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি। এটি তাঁর পরিশ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন ইমরানুর।
সবশেষে, কঠিন সময়ে পাশে থাকা সবাইকে নতুন বছরের শুরুতে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সমর্থন, উৎসাহ ও বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে বলে উল্লেখ করে ইমরানুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালে অ্যাথলেটিকসসহ বাংলাদেশের সব খেলায় নতুন আলো ছড়াবে।
















