সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আসা দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বিরল সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
খালেদা জিয়ার জানাজার ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাতে জয়শঙ্কর ও আয়াজ সাদিক; তারেক রহমানের হাতে নিজ নিজ দেশের শোকবার্তা হস্তান্তর
একই মঞ্চে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের এই সৌজন্য বিনিময় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো নতুন বার্তা বহন করছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি অতিথিদের সম্মানে আয়োজিত এক মুহূর্তের ফাঁকে এই দুই নেতা আলাপচারিতায় মিলিত হন।
তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক
ঢাকায় পৌঁছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক পৃথকভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- ভারত: এস জয়শঙ্কর তারেক রহমানের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো একটি ব্যক্তিগত শোকবার্তা তুলে দেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করেন।
- পাকিস্তান: স্পিকার আয়াজ সাদিক পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘জানাজা কূটনীতি’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ‘জানাজা কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত থাকলেও, ঢাকার এই শোকাতুর পরিবেশে দুই দেশের প্রতিনিধিদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ভূ-রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
বেগম খালেদা জিয়াকে বুধবার দুপুরে জিয়া উদ্যানে সমাহিত করা হয়েছে। তার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আসা এই বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।
















