২০২৫ সালের ব্যাংকিং খাতের ক্ষতগুলো ২০২৬ সালে এসে কতটুকু সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন নতুন বছরের প্রধান লক্ষ্য।
খেলাপি ঋণে ‘বিশ্ব রেকর্ড’ ও পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ: আমানতকারীদের হাহাকারের বছরে রিজার্ভে ইতিবাচক হাওয়া
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে ২০২৫ সাল একটি অস্থির ও সংকটপূর্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক দখল, নজিরবিহীন ঋণ জালিয়াতি এবং গোপন খেলাপি ঋণের তথ্য ফাঁস হওয়ার মধ্য দিয়ে বছরটি পার হয়েছে। একদিকে খেলাপি ঋণের পাহাড় আর আমানতকারীদের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন ও রিজার্ভের স্থিতিশীলতা— এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতে কেটেছে বিদায়ী বছর।
অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বছরজুড়ে নানা কঠোর সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ ও আমানতকারী আতঙ্ক
লুটপাটে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক— এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। তবে এই একীভূতকরণ আমানতকারীদের জন্য কোনো সুখবর আনতে পারেনি। বছর শেষেও তারা তাদের জমানো টাকা ফেরত পাননি। উল্টো শেয়ার শূন্য ঘোষণা করায় পুঁজি হারানোর শঙ্কায় রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন বিনিয়োগকারীরা।
খেলাপি ঋণে ‘বিশ্ব রেকর্ড’
২০২৫ সালে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণ হওয়ার এই ঘটনাকে অর্থনীতিবিদরা ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার ৯০ শতাংশের উপরে চলে গেছে, যা মূলত আগের সরকারের সময়ের রাজনৈতিক ঋণের প্রকৃত চিত্র হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে আশার আলো
তীব্র সংকটের মধ্যেও দেশের অর্থনীতির জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করেছে প্রবাসী আয়। ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৬.৭ শতাংশ বেশি। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ডলারের দর ১২২-১২৩ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল।
ব্যাংকিং সংস্কার ও নতুন আইন
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বৃদ্ধি এবং ঋণপ্রবাহ সীমিত করার ফলে বছর শেষে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এ ছাড়া ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ’ পাসের মাধ্যমে আমানত বিমার পরিমাণ ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
















