উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে এক সপ্তাহের কিছুটা স্বস্তির পর নতুন বছরের প্রথম দিনেই আবারও জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। জেলায় শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যার প্রভাবে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বছরের প্রথম সকালে তেঁতুলিয়ায় দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত কয়েক দিন তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন ঘটেছে পারদের। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাসের
কারণে শীতের অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
পঞ্চগড়
বছরের প্রথম দিনে ঝলমলে রোদ উঠলেও হিমশীতল বাতাসের কারণে পঞ্চগড়ের শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। বিশেষ করে পাথর ও চা শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশার দাপট
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। যদিও সকালের দিকে কুয়াশা কাটিয়ে সূর্যের দেখা মিলেছে, তবে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া উত্তরীয় হিমেল হাওয়ার কারণে রোদেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা মিলছে না। আগের দিন বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনেই তাপমাত্রা কমেছে ৩ ডিগ্রির বেশি।
হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা
তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব আলম জানান, আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনে বিশেষ করে অ্যাজমা ও নিউমোনিয়া রোগীদের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ সতর্ক থাকা এবং গরম পানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করলেও আজ তা ৯ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আগামী কয়েক দিন এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















