রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের ১ হাজার ৪০৭তম দিনে সামরিক সংঘর্ষ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নতুন বছরের রাজনৈতিক বার্তায় উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মস্কোর দিকে আসা পাঁচটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বাহিনী। একই সময়ে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেন, আগের রাতে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ওডেসা শহরের আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সপ্তাহে এক ডিক্রির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় রিজার্ভ সেনা ডাকার অনুমোদন দিয়েছেন। ওই নির্দেশনায় সরকারকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’র একটি তালিকা তৈরির কথাও বলা হয়েছে। রাশিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে আইন পরিবর্তনের পর শান্তিকালেও রিজার্ভ সেনা ডাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নতুন বছরের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুদ্ধের অবসান চান, তবে কোনো দুর্বল শান্তিচুক্তিতে সই করবেন না, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও উসকে দেবে। তাঁর দাবি, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত হলেও বাকি ১০ শতাংশই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর নববর্ষের ভাষণে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, রাশিয়া এই যুদ্ধে জয়ী হবে। তিনি দেশবাসীকে ‘নায়কদের’ পাশে থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে, রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের ড্রোন দিয়ে পুতিনের একটি বাসভবনে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে আসা ড্রোনগুলো রুশ বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার মতে পুতিনের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেনি; ওই এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন থাকলেও সেগুলো সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আলোচনায় শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে সংঘাত পুনরায় শুরু ঠেকানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া ইউক্রেন জানিয়েছে, রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কেনার একটি বিশেষ উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত ২৪টি দেশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে মোট ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতে যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনীতির ময়দানে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে।
















