বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–এর মৃত্যুর দিনেই দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাকে ‘সংকেতপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। বহিষ্কার সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বহিষ্কার সত্ত্বেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেত্রীর
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং নিজের দলীয় বহিষ্কার—এই দুটি ঘটনা একই দিনে ঘটাকে কাকতালীয় নয় বলে মনে করছেন রুমিন ফারহানা। গত মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার রুমিন ফারহানাসহ মোট নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী–র স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা বলেন, যাঁর আদর্শে রাজনীতি করেছেন, যাঁর স্নেহ ও আশ্রয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন—সেই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনেই দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে গভীরভাবে ‘সংকেতপূর্ণ’। তিনি বলেন, আপস না করে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহস তিনি শিখেছেন তাঁর নেত্রীর কাছ থেকেই।
খালেদা জিয়াকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি শুধু একজন দলীয় প্রধান নন, তাঁর রাজনৈতিক অভিভাবকও ছিলেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা জানান, খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল এবং তখনই তাঁর মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে খালেদা জিয়া প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেন, সেই স্মৃতি আজ আরও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
এদিকে বহিষ্কার সত্ত্বেও নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন না রুমিন ফারহানা। এরই মধ্যে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন দাখিলের পর তিনি বলেন, ইতিহাস যেন আবারও ফিরে এসেছে—যেমন ১৯৭৩ সালে তাঁর বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ রাজনৈতিক জোয়ারের বিপক্ষে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছিলেন, তেমনি আজ তাঁকেও জোয়ারের বিপক্ষে দাঁড়াতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একজন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি খেজুর গাছ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।















