ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের এই জোয়ার সৎ ও কালো টাকা মুক্ত রাজনীতির ইঙ্গিত দিলেও, এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এই তহবিলের প্রকৃত ব্যবহার ও স্বচ্ছতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
নতুন ধারার রাজনীতিতে ডিজিটাল গণ-তহবিল: স্বচ্ছতার অঙ্গীকার বনাম আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে— ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-তহবিল সংগ্রহ। নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য চাইছেন। তবে এই স্বচ্ছতার উদ্যোগ নিয়ে ভোটারদের মাঝে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে এর আইনি বৈধতা নিয়ে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, নির্বাচনি আইনে জনগণের কাছ থেকে অনুদান নেওয়া অবৈধ নয়, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন।
ক্রাউড ফান্ডিংয়ে এগিয়ে যারা
এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নতুন প্রজন্মের প্রার্থীরাই মূলত এই পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করছেন। বিশেষ করে এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, ডা. তাজনূভা জাবীন এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।
তাসনিম জারা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সংসদে যাওয়ার যাত্রা শুরু হয় আইন ভাঙা ও মিথ্যা বলার মাধ্যমে। আমি এই অসততা ও মিথ্যার রাজনীতি করব না।” তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচের সীমাবদ্ধতা মেনে জনগণের কাছ থেকেই নির্বাচনি ব্যয় সংগ্রহের অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়াও প্রয়াত প্রার্থী ওসমান হাদি এবং সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের দিলশানা পারুলও এই তালিকায় ছিলেন।
আইনের চোখে গণ-তহবিল
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯০চ ধারা অনুযায়ী:
- ব্যক্তিগত অনুদান: একজন প্রার্থী এক ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা নিতে পারবেন।
- প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান: কোম্পানি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান নেওয়া যাবে।
- ব্যাংকিং চ্যানেল: ২০ হাজার টাকার বেশি যেকোনো লেনদেন অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হতে হবে।
- ব্যয়সীমা: নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, একজন প্রার্থী ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
ইসি’র পর্যবেক্ষণ
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, ক্রাউড ফান্ডিংয়ে বড় কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি বলেন, “আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও এভাবেই তহবিল সংগ্রহ করা হয়। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি সতর্ক করে দেন যে, নির্বাচনি হলফনামায় বা খরচের হিসেবে কোনো তথ্য ভুল দিলে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় ওই সংসদ সদস্যের প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।
















