ইসহাক দারের এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৩ বছর পর কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং নির্বাচন-পরবর্তী সক্রিয়তার ঘোষণা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
‘আইস-ব্রেকিং’ সম্পর্কের নতুন সূচনা: সাবেক সরকারকে ‘পাকিস্তান-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের ঘোষণা
ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান আরও সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ২০২৫ সালে পাকিস্তানের বৈশ্বিক কূটনৈতিক অর্জনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, চলতি বছরের আগস্টে তার ৩৬ ঘণ্টার ঢাকা সফর ছিল দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘বড় আইস-ব্রেকিং অগ্রগতি’। তিনি দাবি করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ‘পাকিস্তান-বিরোধী’ সরকার ক্ষমতায় থাকায় কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব হয়নি।
‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ ও সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ
ইসহাক দার তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “সেখানে আমি পাকিস্তানের প্রতি সদিচ্ছার দুর্দান্ত ইঙ্গিত দেখেছি। আমি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক করেছি।”
২০১২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানী খারের সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমানে সেই ‘কৃত্রিম বাধা’ অপসারিত হয়েছে এবং দুই দেশ এখন ব্রাদারলি বা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিকল্পনা
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ইসলামাবাদ ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা এবং সরাসরি বিমান চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসগুলোতে এই সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সংকটের সময়ে পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনীতি সফল হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করতে পেরেছি এবং নীতিনিষ্ঠভাবে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।”
















