ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক উত্তেজনা পর্যালোচনার লক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় তলব করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জরুরি তলবে সাড়া দিয়ে সোমবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতেই তাকে দ্রুত দেশে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন–এর মধ্যে একদফা আলোচনা হয়েছে। দিল্লি থেকে ফেরা হাইকমিশনারকে নিয়ে আজ অথবা আগামীকাল এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে সংবেদনশীলতা বেড়েছে।
এ ছাড়া ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হামলার পর সেটিও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা–কে গত ২৩ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। একই দিনের বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে। কূটনৈতিক ইতিহাসে একই দিনে দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক মহলের মতে, হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর এই জরুরি ঢাকা সফর ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
















