Dhaka ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের রেকর্ড পতন: সংকটে কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন খাত

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা নিছক ভ্রমণের জন্য দেশের হাজার হাজার নাগরিক একসময় ভারতের কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে কলকাতার হাসপাতাল ও শপিং মলগুলোতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সরকারি ও পর্যটন পরিসংখ্যান বলছে, সেই পরিচিত চিত্রে নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর পতন ঘটেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

যদিও ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে গত ১৮ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে আরো বড় ধস নামে। এত অল্প সময়ে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কেন এতটা কমে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট মহলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কলকাতা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর পুনরায় খুলে দিলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে ‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক এখনো অনেকের মনে রয়ে গেছে।

এর পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক আবেদনকারী ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং বিদেশ ভ্রমণের বাড়তি ব্যয়ও অনেককে বিদেশ সফর থেকে বিরত রেখেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে সীমান্ত পারাপার ও পর্যটন খাতে। এ পরিস্থিতির পাশাপাশি বিকল্প পর্যটন গন্তব্যের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। বর্তমানে দেশের অনেক পর্যটক ভারত ভ্রমণের পরিবর্তে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা তুরস্কের মতো দেশ বেছে নিচ্ছেন। সহজ ভিসা প্রক্রিয়া ও সাশ্রয়ী ট্যুর প্যাকেজ তাদের এসব দেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

অন্যদিকে, কলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণেও অনেকে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের রেকর্ড পতন: সংকটে কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন খাত

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা নিছক ভ্রমণের জন্য দেশের হাজার হাজার নাগরিক একসময় ভারতের কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে কলকাতার হাসপাতাল ও শপিং মলগুলোতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সরকারি ও পর্যটন পরিসংখ্যান বলছে, সেই পরিচিত চিত্রে নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর পতন ঘটেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

যদিও ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে গত ১৮ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে আরো বড় ধস নামে। এত অল্প সময়ে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কেন এতটা কমে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট মহলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কলকাতা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর পুনরায় খুলে দিলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে ‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক এখনো অনেকের মনে রয়ে গেছে।

এর পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক আবেদনকারী ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং বিদেশ ভ্রমণের বাড়তি ব্যয়ও অনেককে বিদেশ সফর থেকে বিরত রেখেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে সীমান্ত পারাপার ও পর্যটন খাতে। এ পরিস্থিতির পাশাপাশি বিকল্প পর্যটন গন্তব্যের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। বর্তমানে দেশের অনেক পর্যটক ভারত ভ্রমণের পরিবর্তে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা তুরস্কের মতো দেশ বেছে নিচ্ছেন। সহজ ভিসা প্রক্রিয়া ও সাশ্রয়ী ট্যুর প্যাকেজ তাদের এসব দেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

অন্যদিকে, কলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণেও অনেকে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন।