বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) চূড়ান্ত; শুল্কমুক্ত সুবিধায় জাপানে যাবে ৭৩৭৯টি পণ্য
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত বা ‘কনফিডেন্স বুস্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন। তাঁর মতে, এই প্রত্যাবর্তন দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে জাপানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (EPA) সম্পন্ন হওয়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | ঢাকা
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বিডা চেয়ারম্যান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের ফেরা বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক আগামীর বার্তা পৌঁছাবে।
জাপানের সঙ্গে ‘গোল্ডেন ডাক’ ভাঙছে বাংলাদেশ
চৌধুরী আশিক বিন হারুন জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়া যেখানে কয়েক ডজন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করে এগিয়ে আছে, সেখানে বাংলাদেশের এই সংখ্যা ছিল শূন্য। গত সপ্তাহে জাপানের সঙ্গে ইপিএ নেগোশিয়েশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসছে। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য তিনটি বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দেবে:
১. জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জোয়ার: গত ৫৪ বছরে জাপানের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব থাকলেও বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার। ইপিএ স্বাক্ষরের ফলে জাপানি বিনিয়োগকারীরা পলিসি কনটিনিউটি ও আইনি সুরক্ষা পাবে। ফলে আইটি, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, লজিস্টিকস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও তরুণদের কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়বে।
২. শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা: চুক্তি কার্যকরের প্রথম দিন থেকেই তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিনিময়ে জাপান বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্যে একই সুবিধা পাবে। এছাড়া সেবা খাতেও জাপান ১২০টি উপখাত বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৩. সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই চুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। বিডা চেয়ারম্যান জানান, প্রথমবারের মতো একটি দক্ষ ‘এক্সপার্ট নেগোশিয়েটর’ দল তৈরি করা হয়েছে, যারা বর্তমানে আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
আগামীর ভিত্তি
বিডা চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য যে ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, তার সুফল পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ভোগ করবে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
















