দেশের প্রথম বিশেষায়িত বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী হিসেবে মুন্সীগঞ্জের বেতকায় ৩০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা বিসিক শিল্পনগরী পাঁচ বছরেও তার কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। ৩৬১টি প্লটের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৩৫টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানে ধীরগতিতে কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে; তবে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনে যেতে পারেনি।
ইছামতী নদীর তীরে প্রায় ৫০ একর জমিতে ২০২০ সালে এই শিল্পনগরী নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০২২ সালে তা শেষ হয়। রাজধানীর ধোলাইখালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক এবং হালকা প্রকৌশল কারখানাগুলোকে পরিকল্পিত স্থানে স্থানান্তর এবং রাজধানীর পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও প্লট বরাদ্দের গতি বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
একাধিক উদ্যোক্তা অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় ভূমির তুলনায় প্লটগুলোর মূল্য বেশি। এছাড়া বেতকা-তেঘরিয়া সড়কে মোল্লাবাজার সেতুর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সুষ্ঠু সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেনি। ইছামতী নদীর নাব্য সংকটের কারণে নৌপথে কারখানার মালামাল পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। অবকাঠামোগত পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা ও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তার অভাবে শিল্পোদ্যোক্তারা এই শিল্পনগরীতে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছেন না।
এই শিল্পনগরীতে ৭, ১০ ও ১৪ শতাংশবিশিষ্ট মোট ৩৬১টি প্লট রয়েছে। প্রথম দফায় প্রতি শতাংশ আট লাখ ১০ হাজার টাকা দর নির্ধারণ করা হলেও, পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা চূড়ান্ত করা হয়। পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য ছয় বছরে ১২ কিস্তি এবং নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সাত বছরে প্লটের মূল্য পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ২০ শতাংশ পেমেন্ট দিয়ে প্লট হস্তান্তর করার ঘোষণা দেয় বিসিক। এছাড়াও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন, মানসম্মত অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহসহ আনুষঙ্গিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিল্পনগরীটি পুরোপুরি চালু হলে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএসপি ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রত্যাশা ইলেকট্রনিকস, স্পেশাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও এনআর ফ্যান ইন্ডাস্ট্রিজ— এই চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দ পাওয়া প্লটে কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।


























