সোমবার থেকে টাকা উত্তোলনের খবর ‘গুজব’; হিসাব স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলেই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ
সদ্য একীভূত হওয়া শরীআহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের তারিখ নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে টাকা উত্তোলনের যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তবে গ্রাহকদের হিসাব নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-তে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই আমানতকারীরা ধাপে ধাপে টাকা তোলার সুযোগ পাবেন।
অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ঢাকা
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর (এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কমাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কয়েকটি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৯ ডিসেম্বর থেকে টাকা দেওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমানতকারীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের বিষয়টি দ্রুতই শুরু হবে, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। অসত্য তথ্যে বিভ্রান্ত না হতে আমরা সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
হিসাব স্থানান্তর ও স্বয়ংক্রিয় সুযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাহকদের তথ্য নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরের কাজ শেষ হতে পারে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে:
- বিদ্যমান চেক বই ব্যবহার করেই আমানতকারীরা তাদের হিসাব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
- যাদের হিসাবে ২ লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে দুই বছর মেয়াদে টাকা তুলতে পারবেন।
- বিশেষ ছাড়: ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক এবং ক্যান্সার বা জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য এই সীমা শিথিল থাকবে; তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ টাকা তুলতে পারবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাঠামো
রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন নতুন এই ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত সুরক্ষায় আমানত বিমা তহবিল (Deposit Insurance Fund) থেকে প্রাথমিকভাবে ১২-১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে আমানতকারীদের একযোগে টাকা উত্তোলনের চাপ কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তারল্য সংকট নিরসন হবে।
















