হাদি হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে শোক ও সংহতি সমাবেশে এনসিপি নেতার কঠোর বার্তা
ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তনের কথা বললেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি সহিংসতার পথে যাচ্ছে—হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে আয়োজিত শোক ও সংহতি সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তারা চেয়েছিলেন ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তন, কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল এখন বুলেটের রাজনীতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফেনী শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু দল এক-দুটি আসনের জন্য নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় বিসর্জন দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “যাঁরা সামান্য আসনের লোভে দল বিক্রি করে দিচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের দলের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা চেয়েছি জুলাই বিপ্লব, ইনসাফের রাজনীতি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ সহিংসতার পথে হাঁটছে। হাদি ভাই আমাদের শিখিয়েছেন—জান দেব, কিন্তু ন্যায়ের পথ ছাড়ব না।”
নবগঠিত গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শীর্ষ নেতা ও আমার বাংলাদেশ পার্টি–এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে যত ভয়ভীতি দেখানো হোক না কেন, বাংলাদেশ কখনো আধিপত্যবাদ বা সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সামান্তা শারমিন বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেওয়ার নির্বাচন। যারা টাকার বিনিময়ে কিংবা কয়েকটি আসনের লোভে নিজেদের বিকিয়ে দেয়, তারা রাষ্ট্রের পক্ষে শক্তি হতে পারে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদার ভূঁইয়া, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহ।
সমাবেশ থেকে বক্তারা হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
















