স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা জারার; ‘নীতির প্রশ্নে’ অনড় থাকার বার্তা দিলেন নুসরাত তাবাসসুম ও সামান্তা শারমিন
নির্বাচনের অন্তিম মুহূর্তে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সংগঠনের আরও তিন শীর্ষ নারী নেত্রীর রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট ইস্যুতে দলের ভেতরে চলা দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্য বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | রাত ১২:১৫ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির প্রভাবশালী নেত্রী তাসনিম জারার নাটকীয় পদত্যাগের পর থেকেই দলটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনসিপির আরও তিন শীর্ষ নেত্রীর পাল্টাপাল্টি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট সংগঠনের ভেতরে চলমান ‘পলিসি কনফ্লিক্ট’ বা নীতিগত দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
তাসনিম জারার ‘স্বতন্ত্র’ লড়াইয়ের ঘোষণা
ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে তাসনিম জারা জানান, কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের হয়ে লড়া তার পক্ষে এখন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমি দেশের মানুষকে কথা দিয়েছিলাম নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য লড়ব। পরিস্থিতি যাই হোক, আমি সেই ওয়াদা রক্ষা করতে স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনের মাঠে থাকব।” তার এই ঘোষণা এনসিপির নির্বাচনী সমীকরণকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
তিন নেত্রীর সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়
তাসনিম জারার পদত্যাগের পর এনসিপির তিন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী—সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
- নুসরাত তাবাসসুম: অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি লিখেছেন, “নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট…।” তার এই বক্তব্য সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের জামায়াত-ঘনিষ্ঠতার দিকে ইঙ্গিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- সামান্তা শারমিন: সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা লিখেছেন, “আমরা লড়াই ছাড়ব না। আল্লাহ সহায়।”
- ডা. মাহমুদা মিতু: তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে লিখেছিলেন, “এক পয়সা দিয়েও দেশি ভান ধরা পশ্চিমা গং বিশ্বাস করি না।” যদিও রহস্যজনকভাবে পোস্টটি দেওয়ার কিছু সময় পর তিনি তা সরিয়ে নেন (ডিলিট করেন)।
নেপথ্যে কী?
এনসিপি সূত্রের খবর, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এই নারী নেত্রীরা। তারা মনে করছেন, অভ্যুত্থানের স্পিরিট বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতিতে নামলে এনসিপি তার স্বকীয়তা হারাবে। তাসনিম জারার পদত্যাগ এই বিদ্রোহের শুরু মাত্র; রবিবার নাগাদ আরও ১০ থেকে ১৫ জন শীর্ষ নেতা দল ছাড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এমন নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ কোন্দল এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ভাঙন ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।
















