তদন্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা তলব, ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করতে দেরি হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। বিচারক মন্তব্য করেন, ‘আসামিকে কি পার্লার থেকে সাজিয়ে আনছেন? এসব বাজে অভ্যাস বাদ দেন।’
────────────────────────
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম রাজুকে আদালতে হাজির করতে বিলম্ব হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা তলব করেছেন আদালত। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন পুলিশের কর্মকর্তা এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ইনচার্জকেও শোকজ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন জানান, হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্তে আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়, যা নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শুনানিকালে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন,
“গ্রেপ্তারের এত পরে কেন আসামিকে আদালতে আনা হলো? আসামিকে কি পার্লার থেকে সাজিয়ে আনছেন? এসব ব্যাড প্র্যাকটিস বাদ দেন।”
এ ঘটনায় আদালত তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন বিভাগ ও হাজতখানা সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশ দেন।
রিমান্ড ও অভিযোগ
আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গুলির ঘটনার পর রাজু পলাতক আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এবং আত্মগোপনে অর্থ সহায়তাও দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার পটভূমি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্তম্প রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় তাকে। গুলিটি তার মাথায় লাগে।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা হলেও পরবর্তীতে তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
















