বেইজিং – তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি প্রতিরক্ষা কোম্পানি ও ১০ জন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। স্বশাসিত এই দ্বীপকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করা বেইজিং বলেছে, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অস্ত্র সহায়তার প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র প্যাকেজের জবাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এটি তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র চুক্তি। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে সীমা অতিক্রমকারী যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেবে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপটিকে অস্ত্র দেওয়ার ‘বিপজ্জনক’ প্রচেষ্টা বন্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস শাখা, নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস করপোরেশন, এল৩হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস ও লাজারাস এআই। চীনের ভেতরে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হবে এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের তাদের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তিদের চীনে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে এবং তাদের চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
টার্গেট করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নয়জন শীর্ষ নির্বাহী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহে বাধ্য, কারণ তাইপে বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তবে তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১৭ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য নতুন অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণা করে। এতে ৮২টি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম বা হিমার্স এবং ৪২০টি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস বিক্রির প্রস্তাব রয়েছে, যার মূল্য চার বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এছাড়া চুক্তিতে ৬০টি স্বচালিত হাউইটজার কামান ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মূল্যও চার বিলিয়ন ডলারের বেশি। এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ড্রোন সরবরাহের কথাও রয়েছে। এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনে রুশ হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অস্ত্র দিচ্ছে, তার সঙ্গে মিল রয়েছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসা করে জানিয়েছে, এই অস্ত্র সহায়তা দ্বীপটির আত্মরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং দ্রুত শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
















