একাকী দাঁড়িয়ে নীরবে কাটিয়েছেন কিছুক্ষণ; সময়ের অভাবে সাভারে স্মৃতিসৌধের বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলীয় নেতারা
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার দ্বিতীয় দিনে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজধানী। শুক্রবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেড় যুগেরও বেশি সময় পর বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মোনাজাত শেষে তাকে বারবার চোখ মুছতে দেখা গেছে।
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সুদীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর আজ প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তারেক রহমান তার বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেছেন। ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম তিনি সশরীরে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন।
বাবার কবরে নিভৃত মুহূর্ত ও অশ্রু বিসর্জন
শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছান তারেক রহমান। প্রথমে দলীয় নেতাদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পর তিনি দীর্ঘক্ষণ একাকী নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর বাবার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত শুরু করলে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মোনাজাত শেষে তাকে টিস্যু দিয়ে অশ্রু মুছতে দেখা যায়, যা সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

স্মৃতিসৌধে সময়ের চ্যালেঞ্জ ও বিকল্প ব্যবস্থা
জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমানের সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতা ও নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের বাধ্যবাধকতা থাকায় সেখানে সশরীরে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১৮ বছরের অপেক্ষা ও জনসমুদ্র
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, ২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার আগে ২০০৬ সালে শেষবার এই মাজারে এসেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তনের দ্বিতীয় দিনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুমার নামাজের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে এবং মাজার অভিমুখে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তিনি মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং কর্মসূচি শেষ করে গুলশানের বাসভবনে ফিরে যান।
গতকাল পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা এবং রাতে হাসপাতালে অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার পর আজ জিয়ার মাজারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দিল।
















