‘সপরিবারে সুস্বাগতম’ জানিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্বারোপ ডাঃ শফিকুর রহমানের; নজরে আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফিরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডাঃ শফিকুর রহমান তাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনে তারেক রহমানের ভূমিকা ও পরিকল্পনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে তার দল।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
লন্ডন থেকে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান সপরিবারে ঢাকায় অবতরণ করার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তারেক রহমান বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কিছু সময় পরেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক উষ্ণ বার্তায় তাকে স্বাগত জানান।
‘সপরিবারে সুস্বাগতম’: জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা
তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও দেশে ফিরেছেন। তাদের স্বাগত জানিয়ে জামায়াত আমির ফেসবুকে লিখেন, “জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!” দেড় দশকেরও বেশি সময় পর একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক সহকর্মীর সরাসরি রাজপথে ফেরাকে তিনি দেশের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশেষ পর্যবেক্ষণ
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান অস্থিতিশীল ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জামায়াত আমির বলেন, “জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমানের কী ভূমিকা থাকে বা তার পরিকল্পনাগুলো কী এবং তিনি তা কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন—এসব বিষয়ে আমাদের নজর থাকবে।”
জোটের পুরনো সঙ্গী, এখন ভোটের প্রতিযোগী
এক সময় বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘস্থায়ী জোটের অংশীদার থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দলের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত এপ্রিলে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ডাঃ শফিকুর রহমানের বৈঠক হলেও এবারের সাম্প্রতিক সফরে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের খবর পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনে দুই দলই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে তারেক রহমানের প্রতিটি পদক্ষেপ জামায়াতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, তারেক রহমানের ওপর এখন বড় দায়িত্ব হলো জাতীয় রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে এবং একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে।
















