অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে বন্ডি বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর দেশটির সবচেয়ে কঠোর অস্ত্র আইন এবং ব্যাপক বিক্ষোভবিরোধী আইন পাস হয়েছে। ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চালানো ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বুধবার ভোররাতে রাজ্য আইনসভায় দ্রুতগতিতে নতুন আইনগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন আইনের আওতায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতা ও জনসমাবেশের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব বিধান বিশেষভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের ভাষা ও কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের টেররিজম অ্যান্ড আদার লেজিসলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত কোনো ঘোষণা জারি হলে পুলিশ তিন মাস পর্যন্ত জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রতীক প্রকাশ করাও বেআইনি হবে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ঘোষণার পর নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং পুলিশের মতে কারও উপস্থিতি যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে বা ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা আতঙ্ক তৈরি করলে তাকে সরিয়ে দেওয়া যাবে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, নতুন আইনের আওতায় ঘৃণাত্মক বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে এবং ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ ধরনের শব্দগুচ্ছ নিষিদ্ধ করা হবে। এই শব্দগুচ্ছটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রিমিয়ার স্বীকার করেন, আইনগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে সবাই একমত নাও হতে পারেন। তবে তাঁর দাবি, বন্ডি বিচে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পর রাজ্য বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে এবং আইনেও তার প্রতিফলন প্রয়োজন।
নতুন অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আগ্নেয়াস্ত্র কেবল কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সীমিত করা হবে। মিন্স বলেন, এতে পরিস্থিতির উত্তেজনা কমবে।
এদিকে, আইন চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার আগেই নিউ সাউথ ওয়েলসভিত্তিক তিনটি সংগঠন—একটি ফিলিস্তিনপন্থী, একটি আদিবাসী এবং একটি ইহুদি অধিকারকর্মী গোষ্ঠী—এসব আইনকে অসাংবিধানিক দাবি করে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ সিডনি জানায়, তারা ব্ল্যাক ককাস এবং জিউস অ্যাগেইনস্ট দ্য অকুপেশন ’৪৮–এর সঙ্গে যৌথভাবে এই আইনি লড়াই শুরু করবে।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্ডি হামলাকে কাজে লাগিয়ে সরকার এমন আইন চাপিয়ে দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করবে, ইসরায়েলের সমালোচনা সীমিত করবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করবে।
এর আগে, চলতি বছর সিডনি হারবার ব্রিজে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি মানুষের বিক্ষোভ হয়। তখন আদালত সরকারের নিষেধাজ্ঞার চেষ্টা বাতিল করেছিল। সেই বিক্ষোভের কয়েক মাস পরই এসব নতুন আইন এলো।
এদিকে, হামলার ঘটনায় যারা সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীদের থামাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তালিকা তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহত ও আহতদের রক্ষায় এগিয়ে আসা কয়েকজন সাধারণ নাগরিককে এই সম্মাননা দেওয়া হতে পারে।
তবে হামলার সময় সাহায্য করতে এগিয়ে আসা এক মুসলিম ব্যক্তির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুলবশত হামলাকারী সন্দেহে যাকে আটক করা হয়েছিল, তিনি একজন শরণার্থী এবং অতীতের একটি অপরাধের কারণে এখন সম্ভাব্য বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
















