আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ডজনখানেক রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিককে ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকেরা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রত্যাহার হওয়া কূটনীতিকদের নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি যেকোনো নতুন প্রশাসনের ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রদূত মূলত প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং প্রেসিডেন্টের অধিকার রয়েছে তাঁর নীতির পক্ষে কাজ করবে—এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোতে নিযুক্ত প্রায় ৩০ জন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে ওয়াশিংটনে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব দেশে সাধারণত অরাজনৈতিক ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তারাই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, অন্তত ২৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বুধবার থেকে তাঁদের পদ ছাড়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন। এর আগে পলিটিকো জানিয়েছিল, প্রায় দুই ডজন রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত দায়িত্ব ছাড়তে বলা হয়েছে।
আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নিয়োগ পাওয়া একাধিক পেশাদার রাষ্ট্রদূতকে ফোন করে জানানো হয়েছে যে তাঁদের আগামী ১৫ বা ১৬ জানুয়ারির মধ্যে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
সংগঠনটির মুখপাত্র নিকি গেমার বলেন, হঠাৎ ও ব্যাখ্যাবিহীন এই প্রত্যাহার কূটনৈতিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে কূটনীতিকদের মনোবল নষ্ট হচ্ছে, কার্যকারিতা কমছে এবং বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যাহার হওয়া কূটনীতিকদের চাকরি বাতিল করা হচ্ছে না। চাইলে তাঁরা ওয়াশিংটনে অন্য দায়িত্ব নিতে পারবেন। তবে পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আফ্রিকায়। বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, মাদাগাস্কার, মরিশাস, নাইজার, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সোমালিয়া ও উগান্ডাসহ অন্তত ১৩টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ফিজি, লাওস, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, মন্টেনেগ্রো, স্লোভাকিয়া, আলজেরিয়া, মিসর, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, গুয়াতেমালা ও সুরিনামেও কূটনৈতিক পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছে এপি।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জিন শাহিন বলেন, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ কূটনীতিকদের সরিয়ে দিয়ে ট্রাম্প কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব চীন ও রাশিয়ার হাতে তুলে দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে কম নিরাপদ, কম শক্তিশালী এবং কম সমৃদ্ধ করে তুলবে।
















