দেশের শীর্ষ দুটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলার এজাহারে এই ক্ষতির হিসাব উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর হামলার ঘটনায় আরও ১১ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত দুই সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলার সময় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হামলায় লুণ্ঠিত সম্পদ ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ সরাসরি লুট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৮ ডিসেম্বর রাতের ওই ঘটনার সময় ডেইলি স্টারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। হামলাকারীরা নগদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের দুই শতাধিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি লুট করে। পাশাপাশি ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সিসিটিভি সিস্টেম ভাঙচুর করা হয়।
মঙ্গলবার প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার মামলায় ইয়াসিন ও হাসেম নামে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ১৭ জন কারাবন্দি রয়েছেন।
ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার মামলায় আদালত ৯ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হলেন মাইনুল ইসলাম, জুলফিকার আলী সৌরভ, আলমাস আলী, জুবায়ের হোসাইন, আয়নুল হক কাশেমী, আবদুল রহমান পলাশ, জান্নাতুল নাঈম, ক্বারী মুয়াজবীন আ. রহমান এবং ফয়সাল আহমেদ।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এক আসামির কাছ থেকে লুট করা টাকা এবং সেই টাকায় কেনা কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
















