অবৈধ নিবন্ধন ও জালিয়াতি রোধে কঠোর বিটিআরসি; বাড়তি ৫০ লাখ সিম বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
নির্বাচনের আগে টেলিকম খাতে নিরাপত্তা জোরদার করতে এক ব্যক্তির নামে সিমকার্ডের সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে এই নতুন নিয়ম।
তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সিমকার্ডের অপব্যবহার রোধে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি নতুন সিম কার্ড নিবন্ধন করতে পারবেন। বর্তমানে এই সীমা ১০টি থাকলেও তা অর্ধেক কমিয়ে আনা হচ্ছে।
সরকারের এই নতুন নির্দেশনার ফলে যাদের নামে বর্তমানে ৫টির বেশি সিম নিবন্ধিত রয়েছে, তাদের বাড়তি সিমগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কেন এই কড়াকড়ি? বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের কিছু অসাধু সিম বিক্রেতা সাধারণ গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ) সংরক্ষণ করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একজন গ্রাহকের নামে একদিনেই একাধিক সিম ইস্যু করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক নয়। এই ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সিমের ব্যবহার বন্ধ করতেই নিবন্ধনের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৫৩ লাখ সিম বাতিলের মুখে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে তা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রায় ৬৭ লাখ অতিরিক্ত সিম শনাক্ত করা হয়। গত তিন মাসে ১৫ লাখ সিম গ্রাহকরা নিজ উদ্যোগে বাতিল করলেও এখনও প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম ‘অবৈধ’ অবস্থায় রয়েছে।
বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও যারা বাড়তি সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, অপারেটরদের মাধ্যমে সেই সক্রিয় সিমগুলো এখন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সিম ব্যবহারে বিশ্বে নবম বাংলাদেশ টেলিকম খাতের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। গত ১০ বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। সিম ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে, যা জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশের চেয়েও বেশি। বিটিআরসির নিবন্ধিত ডাটাবেজ অনুযায়ী দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ, যার মধ্যে বড় একটি অংশ বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
অপারেটরদের উদ্বেগ সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মোবাইল ফোন অপারেটররা ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে আপত্তি জানিয়েছে। তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী স্পষ্ট করেছেন যে, ১ জানুয়ারি থেকে কোনো গ্রাহক ৫টির বেশি সিম নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন না।
গ্রাহকদের দ্রুত নিজের নামে কয়টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে তা যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় সিমগুলো বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
















