সমন্বিত উদ্যোগে ‘ভোটের গাড়ি’ ও ‘ভোটালাপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূলকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের উৎসাহিত করতে জেলা তথ্য অফিসারদের মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তারিখ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা ও ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জেলা তথ্য অফিসারদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি আরও নিবিড় ও কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা।
জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে প্রচার কৌশলের নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সমন্বিত প্রচার ও অর্থ সাশ্রয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার চালাতে হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং একটি ফলপ্রসূ সমন্বিত প্রচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, গণভোটের ডেমো সম্বলিত একটি লিফলেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও এই প্রচারণায় তার বিভাগের দপ্তরগুলোকে সম্পৃক্ত করার আশ্বাস দেন।
নতুন ভোটার ও তরুণ প্রজন্মের ওপর গুরুত্ব তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা জানান, দেশের ৬৪টি জেলা ও চারটি উপজেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটার, তরুণ প্রজন্ম, নারী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অঞ্চলভিত্তিক জনপ্রিয় সংগীত ও সাংস্কৃতিক মাধ্যমের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জনগণকে গণভোটের প্রক্রিয়া হাতে-কলমে বোঝাতে ‘ভোটালাপ’ ও ‘টেন মিনিট ব্রিফ’ নামক বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন দেখানো হবে বলে সভায় জানানো হয়।
তৃণমূল পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই সভায় ৬৮টি জেলা তথ্য অফিসের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ নিজ অঞ্চলের প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন। সরকার আশা করছে, এই বহুমুখী প্রচারণার ফলে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়বে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে।
















