দেশজুড়ে ৭২ হাজার যানবাহন তল্লাশি: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যৌথ বাহিনী
সারাদেশে চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯৮ জনকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
তারিখ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:১৫ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে যৌথ বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৬৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন অভিযানের এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।
ব্যাপক তল্লাশি ও যানবাহন জব্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত একদিনে সারাদেশে মোট ৪৩ হাজার ৩৫২টি গাড়ি এবং ২৮ হাজার ৭৬৬টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়েছে। এই ব্যাপক তল্লাশি চলাকালীন যথাযথ নথিপত্র না থাকায় ২৯১টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক বা জব্দ করা হয়। সড়ক ও জনপদে অপরাধীদের তৎপরতা রোধে এই তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য গত ১৩ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু করার জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের দমন এবং লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ইতিপূর্বে জানিয়েছেন, অপরাধী দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনীর প্রথম পর্যায়ের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ মাস পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করা হলো।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের শেকড় উৎপাটন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি না ফেরা পর্যন্ত এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।














