বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সফল, প্রথম দিন থেকেই সুবিধা পাবে তৈরি পোশাক
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে জাপানের বাজারে হাজারো বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট–ইপিএ) সংক্রান্ত আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু-এর সঙ্গে টেলিফোন আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তিতে যাচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) প্রথম দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
এ ছাড়া আরএমজি খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ–জাপান ইপিএর প্রধান আলোচক আয়েশা আক্তার, উপপ্রধান আলোচক মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং ফোকাল পয়েন্ট মাহবুবা খাতুন মিনু।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
















