বৈষম্যবিরোধী তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ চিরকাল হাদিকে স্মরণে রাখবে এবং তার দেখানো স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে।
শনিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হাদির জানাজায় ইউনূস বলেন, লাখো মানুষের সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কোটি কোটি মানুষ হাদিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল এবং তার কথা শুনতে অপেক্ষা করছিল। তিনি বলেন, “তুমি আমাদের যে কথা বলে গেছ, আমরা তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি। তুমি আমাদের এমন এক মন্ত্র দিয়ে গেছ, যা এই জাতি কোনো দিন ভুলবে না।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদির আদর্শ ও বার্তা আজীবন বাংলাদেশিদের পথ দেখাবে এবং আত্মমর্যাদা ও দৃঢ়তার শিক্ষা দেবে। তিনি বলেন, এই মন্ত্র আমাদের মনে করিয়ে দেবে যে, বাংলাদেশের মানুষ কখনো মাথা নত করবে না।
হাদির উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, তিনি মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন এবং তার চিন্তা ও বিশ্বাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, “আজ আমরা সবাই তোমার কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তোমার দেখানো পথ ও মন্ত্র ধারণ করেই সামনে এগোবো।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় একটি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শুক্রবার ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং নিরাপত্তা ঘাটতি খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হাদির মৃত্যুর পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় বিচার দাবিতে মিছিল হয় এবং কিছু এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সরকার এক বিবৃতিতে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে জানায়, এগুলো কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় অঙ্গীকার, যা হাদির আত্মত্যাগের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
















