সহিংসতা ও নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় জিরো টলারেন্স, মেটাকে চিঠি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানিমূলক কনটেন্ট ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফেসবুকসহ মেটার প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি ও বিটিআরসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ধরনের কনটেন্ট বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়েছে। এরই মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান Meta-কে চিঠি দিয়েছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
পাশাপাশি উসকানিমূলক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য সরকার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা চালু করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরাসরি সহিংসতা ঘটায় বা সহিংসতার আহ্বান জানায়—এমন হেট স্পিচ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জানান, সন্ত্রাস ও সহিংসতার ডাক দেওয়া পোস্টগুলোর বিষয়ে মেটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং এসব কনটেন্ট সরাসরি রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে এসব সহিংসতা ঘটানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার মেটার ভাইস প্রেসিডেন্ট (পাবলিক পলিসি) সাইমন মিলনার, আঞ্চলিক পরিচালক (পাবলিক পলিসি) সারিম আজিজ এবং মানবাধিকার নীতি প্রধান ফ্রেডরিক রাউস্কি-কে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়া কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো সহিংসতা উসকে দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যথাযথভাবে রিপোর্ট করা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি, যা বাস্তব সহিংসতায় ভূমিকা রেখেছে।
সরকার জানিয়েছে, তারা সরাসরি কোনো পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট ডাউন করতে পারে না; তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে অনুরোধ জানাতে পারে। সে কারণেই সাধারণ মানুষকে উসকানিমূলক কনটেন্টের তথ্য দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন থেকে ০১৩০৮৩৩২৫৯২ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ এবং notify@ncsa.gov.bd ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠানো যাবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহার করছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
















