সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজায় জনসমুদ্র এবং খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবি
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাফন করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ বিপ্লবী শরিফ ওসমান বিন হাদি। গতকাল রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। হাদিকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। জানাজায় মানুষের ভিড় ফার্মগেটের খামারবাড়ি থেকে আসাদগেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয় যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ। শোকাতুর জনতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন যে ওসমান হাদি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তিনি হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন যে তার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
জানাজার আগে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি ওসমান হাদির খুনিদের এখনো গ্রেপ্তার না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন যে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও খুনি চক্রের কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। হাদির রক্ত যেন বৃথা না যায় সেজন্য তিনি একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। জানাজা শেষে হাদির মরদেহ বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন চত্বরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিদ্রোহী কবির পাশে হাদিকে দাফন করার মাধ্যমে তার সাহসিকতা ও ত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান হাদির পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর পরিবারের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য যে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও গত শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঝালকাঠির সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।
















