ঢাকা সেনানিবাসে শেষ বিদায় এবং সামরিক মর্যাদায় নিজ নিজ জেলায় দাফনের প্রস্তুতি
৫ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে তাঁদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় নিজ নিজ জেলায় পাঠানো হয়েছে।
সুদানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শহীদ এই সেনাসদস্যরা হলেন নাটেরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
আইএসপিআর জানায় জানাজার আগে নিহত শান্তিরক্ষীদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করা হয়। এরপর তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শহীদদের প্রতি যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতদের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে তাঁদের নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে যেখানে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম কফিনগুলো গ্রহণ করেন। সে সময় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও সম্মানসূচক স্যালুট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত এবং নয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আটজন বর্তমানে কেনিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁরা সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত।
















