মৃত্যুর পর আদালতের নির্দেশে পল্টন থানার মামলা পরিবর্তন, তদন্তে ডিবির বিশেষ টিম
জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানি ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তার মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে।
ঢাকার পল্টন থানা-য় দায়ের হওয়া মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের জন্য শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আদালতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর মতিঝিল জোনাল টিমকে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক ফয়সাল আহম্মেদ।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর রাতে ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদসহ একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত যৌথ অভিযানে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক ও পলাতক আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং সর্বশেষ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে তদন্ত নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত আরও জোরদার করা হবে।
















