জেআইসি সেলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে নির্ধারণ হবে ১৩ আসামির ভাগ্য
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আসামি হিসেবে রয়েছেন এবং ২৬ জন ভুক্তভোগীর ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা প্রসিকিউশন পক্ষ ইতিমধ্যে আদালতে পেশ করেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিশেষ সেল বা জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ ঘোষণা করবেন। আজ জানা যাবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করার জন্য অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর এই মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন নির্ধারিত থাকলেও ট্রাইব্যুনাল সেদিন কোনো আদেশ না দিয়ে আজকের দিনটি পুনর্নির্ধারণ করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এই মামলার বাকি ১০ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন যাদের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব মোহাম্মদ আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল অব সাইফুল আবেদিন ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব মো. সাইফুল আলম। তালিকায় আরও রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল অব হামিদুল হক। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অব তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল অব মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম ও মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল অব মখছুরুল হক।
গত ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এই মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর বিস্তারিত শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে জানান যে কীভাবে জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গুম করে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। তিনি ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জন ব্যক্তির ওপর চালানো বীভৎসতার চিত্র ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন। শুনানি শেষে তিনি ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট চার্জ গঠনের আবেদন জানান।
আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এর আগে ৯ নভেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের পক্ষ থেকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বিচার দাবি করা হয়। গত ২২ অক্টোবর এই মামলার গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তাদের প্রথমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং পলাতকদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সব পক্ষের শুনানি ও আইনি পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ চূড়ান্ত আদেশ দিতে যাচ্ছে।
















