চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধ সংকটে বঞ্চিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠী
চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে নেই পর্যাপ্ত ওষুধও। ফলে প্রতিদিনই প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরায় রয়েছে নয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে চিকিৎসক সংকট ও ওষুধের ঘাটতিতে এসব কেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত রোগী এলেও অধিকাংশ সময় চিকিৎসক পাওয়া যায় না, মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ।
একই চিত্র মুন্সিগঞ্জ জেলাতেও। জেলার ৫৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েক বছর ধরে মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য পড়ে আছে। পাশাপাশি ফার্মাসিস্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল নেই। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
একজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবারই বলা হয়—পরে আসবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ ওষুধ পাচ্ছে না।”
চরকেওয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুষমা চক্রবর্তী জানান, একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ন্যূনতম তিনজন জনবল থাকার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে দুজনের বেশি নেই। তাঁর ভাষায়, “আমার সেন্টারে যেখানে তিনজন থাকার কথা, সেখানে আছি মাত্র দুইজন।”
ঠাকুরগাঁও জেলার ৪৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও শিশুদের টিকাদান ছাড়া অন্যান্য সেবা কার্যত বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়ার মতো মৌলিক সেবাও তারা পাচ্ছেন না।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ইফতে খায়রুল ইসলাম বলেন, আগে যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তার তুলনায় অনেক কম ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলার ৩৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনুমোদিত ৬২৩ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭০ জন। একই ধরনের জনবল সংকটে বেহাল অবস্থা শেরপুর, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোরও।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও পদ অনুমোদন প্রয়োজন।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন অবশ্য আশ্বাস দিয়ে বলেন, কিছু ওষুধের সাময়িক ঘাটতি থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করা হবে এবং অচিরেই পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
তবে ভুক্তভোগী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দাবি, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
















