বিজয় দিবসের র্যালি থেকে ভারতীয় আধিপত্য ও মুজিববাদ চাপানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি এনসিপির
৫ আগস্টের পর দেশে আবারও ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নামে মুজিববাদ চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত বিজয় র্যালি শেষে এসব কথা বলেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ‘আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা’ নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বাংলামটর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
বিকেল চারটায় শুরু হওয়া র্যালিটি শাহবাগ থেকে কাটাবন, পলাশী মোড় ও শহীদ মিনার ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়। পুরো মিছিলজুড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদ ও আগ্রাসনবিরোধী স্লোগান উঠে আসে। র্যালিটি শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিরোধ যাত্রার রূপ নেয়।
শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ধর্মের নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে, আবার মুক্তিযুদ্ধের নামে দেশকে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। মুক্তিযুদ্ধের নামে যেমন দেশকে ভাগ করা যাবে না, তেমনি ধর্মের নামেও বিভাজন করা যাবে না।” তিনি বলেন, প্রতিটি মহল্লায় আগ্রাসনবিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও গণবিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১, ১৯৭১ থেকে ২০২৪—এই ভূখণ্ডের মানুষের প্রতিটি ঐতিহাসিক লড়াইয়ের উত্তরসূরি আমরা। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু প্রকৃত সার্বভৌমত্ব এখনো অর্জিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের নামে মুজিববাদ চাপিয়ে দিলে আমরা তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করব।”
তিনি জানান, হাদিকে কেন্দ্র করে আগ্রাসনবিরোধী লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং লিফলেট ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানো হবে।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের বিজয়কে ভারতের বিজয় হিসেবে তুলে ধরে ইতিহাস বিকৃতি করেছেন। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
















