ইসরায়েলের আসন্ন বহুল আলোচিত জাতীয় সাধারণ নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলন জোরদার করেছেন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নাগরিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আকস্মিক নজিরবিহীন হামলা ঠেকাতে সরকারের চরম গাফিলতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার সঠিক রহস্য উন্মোচনে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের জোরালো দাবিতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী তেল আবিবসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে এই বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানী তেল আবিবের বিখ্যাত ‘হোস্টেজেস স্কয়ারে’ আয়োজিত প্রধান প্রতিবাদ বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জাতীয় বিরোধী দলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও সরাসরি সংহতি জানিয়ে অংশ নেন। ইসরায়েলি শীর্ষ প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘হারেৎস’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, রাজধানী তেল আবিবের এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে তাল মিলিয়ে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নগর ও অঞ্চলেও সরকারবিরোধী এমন সমন্বিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
দেশজুড়ে তড়িৎ ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনের মূল আয়োজনে ছিল ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একটি শক্তিশালী সামাজিক সংগঠন। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সেই রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের পর গাজায় জিম্মি হওয়া এবং নিহত ইসরায়েলিদের স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে এই সংগঠনটি গড়ে তোলেন। হামাসের হামলা রুখতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের রহস্যজনক ব্যর্থতার প্রাতিষ্ঠানিক দায় সুনিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে সুদীর্ঘ দিন ধরে লাগাতার সোচ্চার রয়েছে এই প্রভাবশালী সংগঠনটি।
গত শনিবারের সেই সুবিশাল জনসমাবেশে প্রধান বিরোধী জোটভুক্ত ‘ইয়াশার’ পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট এবং ডেমোক্র্যাটস দলের প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা ইয়ার গোলান সশরীরে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে আরও বেগবান করেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে করতালি দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরিবর্তে তাঁকে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্যে অভিবাদন জানান।
সংঘাতপীড়িত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘ সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যখন নেতানিয়াহু প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা চলছে, ঠিক তখনই নিজ দেশে নিজের জনগণের পক্ষ থেকে এমন ব্যাপক সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের সূচনা হলো। বিগত ৭ অক্টোবরের হামলা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও প্রতিরক্ষা বিভাগের উদাসীন ভূমিকা এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর আইনি জবাবদিহির দাবি সুদীর্ঘ দিন ধরেই জানিয়ে আসছেন স্বজনহারা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আসন্ন হাইপ্রোফাইল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে দেশের সার্বিক রাজপথে এমন নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক তোলপাড় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ক্ষমতার টিকে থাকার ওপর নতুন করে চরম মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছেন বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকরা।























