রাশিয়া ও ইউক্রেন রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে—এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি খুঁজছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সোমবার রাতে আবারও কিয়েভের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টিমুর ত্কাচেঙ্কো বলেন, স্ব্যাতোশিনস্কি জেলায় চারজন নিহত ও কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। এর আগে দিনিপ্রোভস্কি এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, “রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করছে। এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাস।”
অন্যদিকে রুশ কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছে। নভোরোসিস্ক, রোস্তভ-অন-ডন এবং ক্রাসনোদার শহরে আবাসিক ভবনের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
খারকিভের বাসিন্দা ওলেক্সান্দর ভোরোপায়েভ আল জাজিরাকে বলেন, “তারা টেবিলে কলম ধরে আলোচনা করে, আর আমরা এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমার নিচে আছি—এ আলোচনা নিয়ে আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।”
আলোচনায় জটিল অগ্রগতি
এ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ২৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা কিয়েভ ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে রাশিয়ার দাবি-ভিত্তিক হিসেবে ধরা হয়েছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার রাতে ভাষণে বলেন, জেনেভার আলোচনা যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোকে বাস্তবসম্মত করার সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “সংবেদনশীল বিষয়গুলো” নিয়ে তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন।
“জেনেভার পর কিছু পয়েন্ট বাদ গেছে—এখন আর ২৮ নয়—এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাঠামোয় যুক্ত হয়েছে। কাজ এখনও বাকি আছে, তবে তা মর্যাদা বজায় রেখেই শেষ করতে হবে,” বলেন জেলেনস্কি।
ট্রাম্পও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিত দেন যে আলোচনা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির’ দিকে এগোতে পারে।
তবে তার প্রশাসনের অবস্থান এখনো অসঙ্গত—একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে রাশিয়ার বহু দাবি স্বীকার করার মতো ইঙ্গিত।
রুশপক্ষ বলছে, তারা সংশোধিত পরিকল্পনা এখনো দেখেনি। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই, তবে রাশিয়া আলোচনার জন্য “উন্মুক্ত”।
ইউরোপীয় নেতারা পরিকল্পনার পরিবর্তিত সংস্করণকে সতর্কভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বলেন, পরিকল্পনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বদলানো হয়েছে, তবে “পরবর্তী ধাপ হলো রাশিয়ার আলোচনায় যোগ দেওয়া।”
রুশ অবস্থান কঠোর
মস্কো থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার অবস্থান এখনো কঠোর—তারা নিজেদের শর্ত মানা না হলে যুদ্ধক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও ফোনালাপে পুতিনকে জানিয়েছেন, আঙ্কারা রাশিয়া-ইউক্রেনের সরাসরি সংলাপ সহজ করতে সহযোগিতা করতে চায়।
আলোচনার পর “ইচ্ছুক দেশগুলোর জোট” মঙ্গলবার একটি ভিডিও কনফারেন্স করবে।
এই অবস্থায় যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, আর রাতে আকাশজুড়ে বিস্ফোরণ দেখছে কিয়েভের মানুষ—যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই।
















