ইতালির শীর্ষ আদালত জার্মানির অনুরোধ মেনে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইউক্রেনীয় নাগরিক সেরহি কুজনিয়েত্সভকে জার্মানিতে প্রত্যর্পণের অনুমোদন দিয়েছে।
৪৯ বছর বয়সী কুজনিয়েত্সভ ২০২২ সালে বাল্টিক সাগরের নিচে থাকা রাশিয়া–ইউরোপ গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণে সমন্বয়কারী ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই হামলায় রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ বন্ধ হয়ে যায় এবং ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।
গত মাসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ত্রুটির কারণে ইতালির একটি আদালত প্রত্যর্পণ আটকে দিয়েছিল। তবে বুধবার ইতালির সুপ্রিম কোর্ট অফ ক্যাসেশন সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে কুজনিয়েত্সভকে জার্মানিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তাঁর আইনজীবী নিকোলা কানেসত্রিনি জানান, “তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই জার্মান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবেন।”
ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী, পরিবারসহ ছুটি কাটাতে রিমিনি শহরে গেলে আগস্টে কুজনিয়েত্সভকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দাবি করেন, হামলার সময় তিনি ইউক্রেনে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং আন্তর্জাতিক আইনে তাঁর “কার্যগত দায়মুক্তি” থাকা উচিত।
জার্মান প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছে, কুজনিয়েত্সভ ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে জার্মানির রস্টক থেকে একটি ইয়ট ভাড়া করেন এবং ওই নৌযান দিয়েই বর্নহোম দ্বীপের কাছে ৭০–৮০ মিটার গভীরতায় ১৪ থেকে ২৭ কেজি বিস্ফোরক রেখে অন্তত চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিস্ফোরণে নর্ড স্ট্রিম ১ ও ২–এর চারটি স্থানে ক্ষতি হয়, এবং পরে আর কোনো গ্যাস পরিবহন সম্ভব হয়নি।
গত মাসে পোল্যান্ডের একটি আদালত একই মামলায় আরেক ইউক্রেনীয় সন্দেহভাজনকে জার্মানিতে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাঁকে মুক্তি দেয়।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে চিঠি লিখে কুজনিয়েত্সভের প্রত্যর্পণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য—রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাইপলাইন ধ্বংস ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত বৈধ পদক্ষেপ হতে পারে।
ফলে তাঁরা প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আন্তর্জাতিক আইনে দায়মুক্তি যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে কুজনিয়েত্সভের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ইতালির একটি উচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে আছেন এবং এক পর্যায়ে কারাবস্থার প্রতিবাদে অনশনও করেছিলেন।
তদন্তে আরও ছয়জন সন্দেহভাজনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
















