দিল্লির লালকেল্লার পাদদেশে যে বিস্ফোরণে রাজধানীর হৃদয় কেঁপে উঠেছিল, সেই ঘটনার পর নতুন করে আলোড়ন তুলেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থার পদক্ষেপ। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাশ্মীরের পাম্পোর এলাকার এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে শুধু একটি গাড়ি নয়, মৃত্যু হয়েছে বারোজন মানুষের, আহত হয়েছেন আরও বত্রিশজন—একটি শহর, একটি দেশ মুহূর্তে ডুবে গেছে আতঙ্কে।
গ্রেপ্তার হওয়া আমির রশিদ আলীর নামেই নিবন্ধিত ছিল বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সেই গাড়ি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাকে দিল্লিতেই আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি আত্মঘাতী হামলাকারী ওমর উন নবির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গাড়ি কেনার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন।
নবির নামে নিবন্ধিত আরেকটি গাড়িও জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজন চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে চলছে আরও অনুসন্ধান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা এই হামলাকে বর্ণনা করেছে ‘ঘৃণ্য সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে। তবু সরকার প্রথম দিকে অস্বাভাবিকভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছিল; প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের নাম উচ্চারণ করা হয়নি। মে মাসে মোদি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে যে কোনো সন্ত্রাসী হামলাকে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ হিসেবে দেখা হবে। তাই এমন হামলার পর সরাসরি অভিযোগ আনার চাপও বাড়ে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সরকার সতর্কতা অবলম্বন করে।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার রাতে কেঁপে ওঠে শ্রীনগর। পুলিশ স্টেশনে বাজেয়াপ্ত বিস্ফোরক দ্রব্য হঠাৎই ফেটে যায়, মৃত্যু হয় নয়জনের, আহত প্রায় ত্রিশজন। কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল দুর্ঘটনা, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা নেই। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা।
উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একযোগে অভিযান চালিয়ে কাশ্মীর পুলিশ উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক। উদ্ধার তালিকায় আছে রাসায়নিক, সার্কিট, রিমোট কন্ট্রোলসহ আইইডি তৈরির উপকরণ—যেন ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আরেক অশান্তির ইঙ্গিত।
দিল্লির রাস্তায় কালো ধোঁয়ার দাগ এখনও শুকায়নি। লালকেল্লার পাশের সেই বিস্ফোরণ শুধু একটি শহরকে নয়, পুরো দেশকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—বিস্ফোরণ শুধু ধাতু ও কংক্রিট ভেঙে দেয় না, মানুষের নিরাপত্তাবোধও ভেঙে চুরমার করে দেয়।
















