দীর্ঘ রক্তঝরা সংঘর্ষ আর অনিশ্চয়তার ছায়ায় মোড়া গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অবশেষে এক মৃদু আশার আলো জ্বলে উঠেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় সরকারি প্রতিনিধি ও রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো এক কাঠামোগত শান্তি চুক্তি, যা বহু বছরের যুদ্ধের ভার লাঘবের এক কোমল প্রতিশ্রুতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র এক যৌথ ঘোষণায় জানিয়েছে, এই সমঝোতা একটি সামগ্রিক রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে, যার লক্ষ্য লড়াই থামিয়ে মানবিক বিপর্যস্ত অবস্থার পরিবর্তন আনা। গত কয়েক মাস ধরে দোহায় মধ্যস্থতায় কথোপকথন চলছিল, আর এর ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে হওয়া যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতেই এগিয়ে এল সর্বশেষ এই চুক্তি।
দোহায় সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আল খুলাইফি বলেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং শান্তির জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে। তিনি জানান, আটটি বাস্তবায়ন প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত। এগুলো হলো যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও বন্দী বিনিময়ের নির্দেশনা।
অন্য প্রোটোকলগুলো আগামী সপ্তাহগুলোতে আলোচনার টেবিলে উঠবে। এসবের মধ্যে রয়েছে বাস্তবায়নের সময়সূচি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরা, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পুনঃএকত্রীকরণ এবং বিদেশি সশস্ত্র উপস্থিতি নিরসন।
চুক্তি অনুযায়ী একটি স্বাধীন কমিটি পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবে এবং জাতীয় পুনর্মিলনের পথে ক্ষতিপূরণ বিষয়ক সুপারিশ দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস এই অগ্রগতিকে ঐতিহাসিক অভিহিত করে বলেন, এটি তাৎক্ষণিক ফল দেবে না, বরং দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে শান্তির পথে নতুন সূচনা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শান্তি কোনো বাতি নয়, যা এক মুহূর্তে জ্বলে ওঠে। এটি সময়ের, ধৈর্যের এবং বহুমুখী প্রচেষ্টার যাত্রা।
ডিআরসির গোমা শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জনগণের মাঝে আশার স্রোত বয়ে গেলেও মাঠে প্রভাব পড়তে সময় লাগবে। এমনকি সমঝোতা ঘোষণার সকালেই এম২৩ জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর গোলাবর্ষণের মুখেও তারা কিছু এলাকা দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে।
তবুও, বহু বছরের যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝে এই চুক্তি যেন শান্তির সুবাতাস। কঙ্গোর মানুষের দিগন্তে নতুন করে উঁকি দিয়েছে নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের আগামীকাল।
















