ChatGPT said:
কিয়েভের আকাশে এখনও রুশ ড্রোনের গুঞ্জন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ধোঁয়ার রেখা। যুদ্ধ ক্লান্ত এই দেশটিতে এখন আরেক দুঃস্বপ্নের ছায়া—দুর্নীতির ঘূর্ণাবর্তে ডুবে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকার।
এক ভয়াবহ কেলেঙ্কারি দেশটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি ‘এনারগোঅ্যাটম’-এর চুক্তি নিয়ে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আত্মসাৎ—সব অভিযোগের কেন্দ্রে জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রাক্তন ব্যবসায়িক অংশীদার তিমুর মিনদিচ।
অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধকালীন এই রাষ্ট্রীয় কোম্পানির সম্পদ লুণ্ঠনের মূল পরিকল্পনাকারী তিনিই। ইউক্রেনের দুর্নীতি দমন ব্যুরো ও বিশেষ দুর্নীতি প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, মিনদিচ ও তার সহযোগীরা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন ঘুষ হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ডলার।
তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন মিনদিচ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এখন ইসরায়েলে আছেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও আমলাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে—তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষরাও।
তদন্তে পাওয়া গেছে ভয়াবহ সব অডিও-ভিডিও, যেখানে ‘কার্লসন’, ‘রকেট’ কিংবা ‘টেনর’-এর মতো ছদ্মনামে ঘুষ ও কমিশনের লেনদেন নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি ঘুষের টাকা ‘চে গেভারাকে’ দেওয়ার সময় বলা হচ্ছিল, “ভালো নোটগুলো দেব না, পুরনো নোটই যথেষ্ট।”
এই খবর প্রকাশের পর ইউক্রেনজুড়ে ক্ষোভের আগুন। রাস্তায় নেমে এসেছে মানুষ, জেলেনস্কির বিরুদ্ধে সোচ্চার বিরোধীরা। সেই চাপে প্রেসিডেন্ট এখন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, “দুর্নীতি যে করুক, শাস্তি হবেই।” কিন্তু জনগণ তার কথায় ভরসা খুঁজে পাচ্ছে না।
অ্যান্টি-করাপশন অ্যাকশন সেন্টারের প্রধান তেতিয়ানা শেভচেঙ্কো বলেন, “এই লোকগুলো জেলেনস্কির নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার আসনে এসেছে। এখন তারা রাষ্ট্রকে লুটে নিচ্ছে।”
ইতিমধ্যে বিচারমন্ত্রী জারমান হালুশচেনকো ও জ্বালানিমন্ত্রী স্বেতলানা গ্রিঞ্চুক পদত্যাগ করেছেন। দুজনের নামই এই কেলেঙ্কারিতে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, এই কেলেঙ্কারি জেলেনস্কির শাসনব্যবস্থায় এক বড় ভূমিকম্পের মতো। তিনি বলেন, “এই দুর্নীতির জটিলতা যদি রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়, তবে তা যুদ্ধক্ষেত্রেও পরাজয়ের পথ খুলে দিতে পারে।”
এই প্রথম নয়। ইউক্রেনের মানুষ এই দৃশ্য আগেও দেখেছে—সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোও ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তার নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই জড়িয়েছিলেন অস্ত্র চুক্তির কেলেঙ্কারিতে। শেষমেশ জনগণের রায়ে তিনি বিদায় নিয়েছিলেন, আর সেই তরুণ কৌতুক অভিনেতা জেলেনস্কিই তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, “আমার বন্ধুরা যদি চুরি করে, আমি তাদের জেলে পাঠাব।”
আজ সেই প্রতিশ্রুতিই যেন নিজের ছায়ার মতো জেলেনস্কিকে তাড়া করছে।
জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন বলেন, “ইউক্রেনের যুদ্ধ এখন শুধু রুশ সেনার সঙ্গে নয়, নিজের ভেতরের পচনের সঙ্গেও। দুর্নীতি যখন সেনা সরঞ্জাম, বিদেশি সাহায্য আর সৈন্যদের জীবনের বিনিময়ে বাণিজ্যে পরিণত হয়—তখন যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসও ভেঙে পড়ে।”
রক্ত, ধোঁয়া আর বিশ্বাসঘাতকতার এই মিশ্রণে কিয়েভ আজ এক অনিশ্চিত প্রভাতের অপেক্ষায়—যেখানে জয়ের আশার চেয়ে হারার ভয়ই বেশি।
















