তুরস্কের সরকার নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-র নিরস্ত্রীকরণ ও বিলুপ্তির প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দিতে বহু প্রতীক্ষিত একটি আইনপ্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)-র সংসদীয় নেতা আবদুল্লাহ গুলের বলেন, এটি কোনো সাধারণ ক্ষমার আইন নয়; বরং নিরস্ত্রীকরণের পরবর্তী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি আইনি কাঠামো। তার ভাষায়, সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান বজায় রেখেই আইনের শাসনের আওতায় পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘জাতীয় সংহতি ও সামাজিক একীকরণ শক্তিশালীকরণ আইন’ শীর্ষক প্রস্তাবটিতে ৩৬০ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে একেপি, ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি), কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টিসহ কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র সদস্য সমর্থন দিয়েছেন।
আইনপ্রস্তাবে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি বা দণ্ডিতদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে সাজা স্থগিত, তত্ত্বাবধানে মুক্তি এবং বিচারিক নজরদারির মতো বিধান রাখা হয়েছে। তবে এসব সুবিধা কার্যকর হবে তখনই, যখন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমজিকে) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করবে যে পিকেকে ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়েছে এবং সব অস্ত্র সমর্পণ করেছে।
তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে সরাসরি আইন পাস করতে ৪০০ ভোট প্রয়োজন। তবে ৩৬০ ভোট থাকলে প্রস্তাবটি গণভোটে পাঠানো সম্ভব। সরকার অবশ্য গণভোটের পরিবর্তে সংসদেই আইনটি পাস করতে চায়।
আইনপ্রস্তাবটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দি পিকেকে প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালানের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বানের ধারাবাহিকতায় আনা হয়েছে। সেই উদ্যোগের পর থেকেই শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয় এবং সংসদীয় কমিশন গঠিত হয়।
তবে সব রাজনৈতিক দল এ উদ্যোগের পক্ষে নয়। গুড পার্টি ও ভিক্টরি পার্টি ইতোমধ্যে বিরোধিতা করেছে। নিউ ওয়েলফেয়ার পার্টি গণভোটের দাবি জানিয়েছে, আর নতুন প্রধান বিরোধী দল এখনো তাদের অবস্থান জানায়নি। গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর শরৎ অধিবেশনে বিলটির ওপর ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
















