গাম্বিয়ার রাজধানী বানজুলের উপকূলীয় ট্যানবি জলাভূমিতে হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করে উপকূল রক্ষা এবং জীবিকা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় নারীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূল ক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের এই উদ্যোগ নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
৩৪ বছর বয়সী ফাতু জারজু ছোটবেলা থেকেই জলাভূমিতে ঝিনুক, কাঁকড়া ও মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গত এক বছরে তিনি পাঁচ হাজারের বেশি ম্যানগ্রোভ রোপণ করেছেন। তার ভাষায়, সুস্থ ম্যানগ্রোভ মানেই নিরাপদ উপকূল, বেশি মাছ ও ঝিনুক, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই জীবিকা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষা মৌসুমে ঝিনুক সংগ্রহ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্য বিষক্রিয়া নয়; বরং ঝিনুকের প্রজনন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ সময় বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিভিন্ন বর্জ্য জলাভূমিতে প্রবেশ করায় ঝিনুকের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের ফলে ঝিনুকের উৎপাদন ও আকার দুটোই বেড়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় ক্ষয় কমে যাওয়ায় এলাকার মানুষও বেশি নিরাপদ বোধ করছেন।
বানজুলের মেয়র রোহেই মালিক লোয়ে বলেন, ম্যানগ্রোভ না থাকলে রাজধানী শহরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই স্থানীয় নারীদের এই উদ্যোগ শুধু তাদের জীবিকাই নয়, পুরো শহরকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
তবে বিদ্যুতের অভাব, সংরক্ষণ সুবিধার সংকট এবং বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও প্রতিদিন জলাভূমিতে ফিরে গিয়ে নতুন চারা বাঁচিয়ে রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফাতু ও তার সহযাত্রীরা।
















