বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমলেও তা এখনো কোভিড-১৯ মহামারির আগের পর্যায়ে ফিরে আসেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ কোটি ৪০ লাখ এবং ২০২২ সালের তুলনায় ৪ কোটি ৩০ লাখ কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ অপুষ্টি বা ক্ষুধার মধ্যে ছিলেন। তবে সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এখনো খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
আফ্রিকা এখনো সবচেয়ে বেশি ক্ষুধাপীড়িত অঞ্চল। ২০২৫ সালে সেখানে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছেন, যা বিশ্বের মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে এশিয়ায় প্রায় ২৯ কোটি ২০ লাখ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের সংখ্যা কমলেও এখনো প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ায় এ সমস্যা সবচেয়ে প্রকট।
এদিকে জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। এর মধ্যে গাজা ও সুদানে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভয়াবহ ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকটগুলো খাদ্য নিরাপত্তার উন্নয়নের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
















