দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্রিপ্টোকারেন্সি, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে এশিয়ার বাইরেও দ্রুত তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমেই ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৮৮ দশমিক ৩ থেকে ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধচক্রগুলো এআই, ডিপফেক প্রযুক্তি ও জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া বিনিয়োগ, ফিশিং, আর্থিক জালিয়াতি এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো অপরাধ আরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউএনওডিসি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট তৈরি ও পাচার, মানবপাচার এবং জোরপূর্বক শ্রমে ব্যবহারের মতো অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্ল্যাটফর্মও শিশু ও কিশোরদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে মাদক, বন্যপ্রাণী, অস্ত্র ও তামাক পাচারের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী সামুদ্রিক অঞ্চলকে লাতিন আমেরিকা থেকে এশিয়ায় কোকেন পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে জাপান ও ইউরোপে গাঁজা পাচারের প্রবণতাও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের মতে, এই প্রযুক্তিনির্ভর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় তথ্য, যোগাযোগ, আর্থিক ব্যবস্থা এবং অনলাইন সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সীমান্তপারের আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
















