একসময় উন্নত জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত বেইজিং এখন অনেক তরুণের কাছে আর আকর্ষণীয় গন্তব্য নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, আবাসন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার বাড়তি খরচের কারণে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে অপেক্ষাকৃত ছোট শহরে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও চাকরিপ্রার্থীরা ভালো ভবিষ্যতের আশায় বেইজিংয়ে আসতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসন খাতের সংকট, মহামারির প্রভাব এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় চাকরির বাজার সংকুচিত হয়েছে। ফলে অনেক তরুণের কাছে রাজধানীতে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
রাজধানীতে কর্মজীবন শুরু করা এক তরুণ জানান, আবাসন খাতের মন্দার কারণে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে একটি ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তার মতে, বাসাভাড়া, দৈনন্দিন খরচ ও সামাজিক জীবনের ব্যয় মেটানোর পর সঞ্চয়ের সুযোগ খুবই সীমিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে অসংখ্য তরুণ মতামত দিচ্ছেন। তাদের অনেকের বিশ্বাস, একই অর্থ অন্য কোনো শহরে ব্যয় করলে তুলনামূলক ভালো জীবনযাপন সম্ভব। যদিও রাজধানী ছেড়ে যাওয়াকে একসময় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হতো, এখন সেই মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও তীব্র প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি থেকে সরে এসে অনেক তরুণ এখন মানসিক স্বস্তি ও জীবনের ভারসাম্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উচ্চ আয়ের পেছনে ছুটে ক্লান্ত হয়ে তারা সহজ ও চাপমুক্ত জীবনধারার দিকে ঝুঁকছেন।
অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ, কর্মসংস্থান সংকট ও ব্যয়বৃদ্ধির কারণে দেশের বড় শহরগুলোতে সাফল্যের প্রচলিত ধারণা বদলে যাচ্ছে। অনেক তরুণের কাছে এখন সাফল্যের অর্থ আর কেবল বড় শহরে বসবাস নয়, বরং এমন একটি স্থানে স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলা, যেখানে মানসিক শান্তি ও জীবনমান দুটিই নিশ্চিত করা যায়।
















