চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সরকারি লক্ষ্যমাত্রার নিচে নেমে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বেড়েছে চার দশমিক তিন শতাংশ। আগের প্রান্তিকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল পাঁচ শতাংশ। চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও এর চেয়ে বেশি।
যদিও জুন মাসে দেশটির রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তবুও অভ্যন্তরীণ বাজারের দুর্বল চাহিদা সামগ্রিক অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিয়েছে।
পরিসংখ্যান প্রকাশকারী সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
একই সময়ে প্রকাশিত অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্যেও আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা এবং ভোক্তা ব্যয়ের সীমিত প্রবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। নতুন আবাসনের দাম টানা কমলেও আগের মাসের তুলনায় পতনের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রিতে সামান্য উন্নতি দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে গেলেও দুর্বল ভোক্তা চাহিদার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সেই অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরাই বহন করছে। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক সংঘাত চলতে থাকলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে কয়েকজন অর্থনীতিবিদের মতে, প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী চিত্রের একটি কারণ হতে পারে সরকারের নতুন বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। এতে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন সরকারি পরিসংখ্যানে আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসছে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির জন্য বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে চীনের অর্ধপরিবাহী পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় দেশটির গাড়ি রপ্তানিও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
















