বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে বলে এক নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের জনমত পর্যবেক্ষণ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে।
জরিপে বিশ্বের ছত্রিশটি দেশের প্রায় বেয়াল্লিশ হাজার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পঁচিশটি দেশের অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।
জরিপে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে মনে করা হলেও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে অনেকেই চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কম হস্তক্ষেপকারী হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার প্রশ্নেও দুই দেশের শীর্ষ নেতার প্রতি সামগ্রিক আস্থা খুব বেশি নয়। তবে অধিকাংশ দেশে চীনের নেতার প্রতি আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তুলনামূলক বেশি ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি, আর উচ্চ আয়ের দেশগুলোর একটি বড় অংশে চীনের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক কম। তবে এ ক্ষেত্রেও কয়েকটি ব্যতিক্রম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ অনেক দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে চীন নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়লেও দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন এখনও বহাল রয়েছে।
















