ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন আর শুধু সীমান্তবর্তী প্রবেশপথ নয়, বরং সুসংগঠিত স্বর্ণ পাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় চালান জব্দের ঘটনায় এই অঞ্চলের ভূমিকা নতুন করে সামনে এসেছে।
গত মাসের শেষ দিকে একটি বিশেষ অভিযানে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে প্রায় সাঁইত্রিশ কেজি খাঁটি চব্বিশ ক্যারেট স্বর্ণের বার উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় পঞ্চান্ন কোটি রুপি। এটিকে ওই রাজ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় একক স্বর্ণ জব্দের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা বা সীমান্ত এলাকার পরিচিত চোরাচালানকারী ছিলেন না। তিনি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের একটি রাজ্যের বাসিন্দা। তদন্তে জানা গেছে, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ভিন্ন পরিচয়ে শহরে অবস্থান করছিলেন এবং সন্দেহ এড়াতে নিজেকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা স্বর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রে বিভিন্ন রাজ্যের সদস্যরা জড়িত এবং তারা পরিচয় গোপন রাখতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে এখন কেবল সীমান্ত এলাকা হিসেবে নয়, বরং স্বর্ণ পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আন্তঃরাজ্য সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
















