ঋতুচক্রের নির্দিষ্ট সময়ে মনোযোগের সমস্যায় ভোগা অনেক নারীর উপসর্গ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। এ বিষয়টি নিয়ে নতুন একটি গবেষণায় হরমোনের পরিবর্তন, উপসর্গের তীব্রতা এবং ওষুধের কার্যকারিতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীরা প্রতিদিনের শারীরিক পরিবর্তন, মানসিক অবস্থা, মনোযোগ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আচরণগত পরিবর্তনের তথ্য সংরক্ষণ করছেন। গবেষকেরা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখার চেষ্টা করছেন, ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে উপসর্গের কোনো নির্দিষ্ট ধরণ তৈরি হয় কি না এবং ওষুধ একইভাবে কাজ করে কি না।
অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, ঋতুচক্র শুরুর আগে মনোযোগ ধরে রাখা, দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলেছেন, নিয়মিত যে ওষুধ তাদের কাজে সহায়তা করে, সেই সময়ে তার কার্যকারিতাও কমে যায় বলে মনে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুচক্রের একটি পর্যায়ে শরীরে নির্দিষ্ট হরমোনের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের রাসায়নিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসে। এর ফলে মনোযোগের ঘাটতি, অস্থিরতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি। তবে সচেতনতা বাড়ায় এখন অনেক নারী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন এবং চিকিৎসা সহায়তা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
তাদের আশা, গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের রোগীদের জন্য আরও উপযোগী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নারীরা নিজেদের শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক বুঝে দৈনন্দিন জীবন আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
















